জাল দলিল চেনার উপায় ও করণীয় জেনে নিন।

জাল দলিল চেনার উপায় এবং দলিল জাল হলে করণীয় বিষয়ে জেনে নিন।

Last Updated on 14/05/2026 by সাব-রেজিস্ট্রার শাহাজাহান আলী পিএএ

দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪৭০ ধারায় ‘জাল দলিল’ এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রস্তুতকৃত কোনো মিথ্যা দলিলকে ‘জাল দলিল’ বলা হয়।  
 
 

নিম্ন-লিখিত উপায়ে জাল দলিল সনাক্ত করা যেতে পারে- 

১। কোনো দলিল নিয়ে সন্দেহ হলে প্রথমে রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে জানতে হবে যে, দলিলটির রেজিস্ট্রি কার্যক্রম শেষ হয়েছে কি-না অর্থাৎ দলিলটি বালাম বহিতে কপিকরণ বা নকলকরণ কাজ শেষ হয়েছে কি-না। রেজিস্ট্রি কার্যক্রম শেষ না হয়ে থাকলে দলিলটি সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষণ করা মূল দলিলের সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে। রেজিস্ট্রি কার্যক্রম শেষ হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড রুমে বা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের রেকর্ড রুমে সংরক্ষণ করা বালাম বহির সাথে দলিলটি মিলিয়ে দেখতে হবে। এ জন্য নির্দিষ্ট ফি’স প্রদান করে দলিলটি ‘তল্লাশ ও পরিদর্শনের’ জন্য নির্দিষ্ট আবেদন ফর্মে আবেদন করতে হবে। 

২। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট দলিলে উল্লিখিত জমির মিউটেশন বা নামজারি সম্পর্কে খোঁজ নিতে হবে। নামজারিতে ধারাবাহিকতা ঠিক আছে কি না, পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সি,এস, খতিয়ানকে ভিত্তি হিসেবে ধরতে হবে। সি,এস, খতিয়ানের সঙ্গে বিক্রেতার নামজারি খতিয়ানের কোনো গরমিল থাকলে জাল-জালিয়াতি আছে মর্মে ধরে নিতে হবে।

৩। সংশ্লিষ্ট দলিলে উল্লিখিত জমির মাঠপর্চাও যাচাই করতে হবে। এক্ষেত্রে উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট ফিস প্রদান করে আবেদনের মাধ্যমে মাঠপর্চা উঠিয়ে যাচাই করতে হবে। সংশ্লিষ্ট জমির মাঠপর্চা অন্য ব্যক্তির নামে হলে সেখানে জাল-জালিয়াতি আছে মর্মে ধরে নিতে হবে।

৪। দলিলটি “হেবার ঘোষণাপত্র” বা “দানের ঘোষণাপত্র” হলে সেক্ষেত্রে দাতা-গ্রহিতার সম্পর্ক পরীক্ষা করতে হবে। এ ধরনের দলিল নির্দিষ্ট কয়েকটি সম্পর্কের মধ্যে হয়ে থাকে। যথা- স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে, পিতা-মাতা ও ছেলে-মেয়ের মধ্যে, আপন ভাই-বোনের মধ্যে, নানা-নানী ও নাতি-নাতনীর মধ্যে, দাদা-দাদী ও নাতি-নাতনীর মধ্যে। এ কয়েকটি সম্পর্কের বাইরে এ দুই ধরনের দলিল রেজিস্ট্রি হলে তা সঠিক হবে না এবং এ ধরনের দলিল মূলে প্রাপ্ত জমি ক্রয় করা যাবে না। 

৫। মূল মালিকের স্বাক্ষর নকল করে জাল দলিল তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্বাক্ষর বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করতে হবে। 

৬। রেজিস্ট্রি অফিসের সীল জাল করে জাল দলিল তৈরি হলে প্রয়োজনে রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে বিভিন্ন সীল পরীক্ষা করতে হবে।

৭। সম্প্রতি রেজিস্ট্রি করা কোন দলিলের লেখককে জিজ্ঞাসা করেও জাল দলিল সনাক্ত করা যেতে পারে।

৮। দলিলটি সাম্প্রতিক রেজিস্ট্রিকৃত পাওয়ার অব অ্যাটর্ণি দলিল হলে সেটি নির্দিষ্ট ফরমেটে প্রস্তুত কিনা যাচাই করুন। কারণ বর্তমানে ১৯ টি কলামে দলিলটি প্রস্তুতের বিধান রয়েছে।

৯। আইন ও বিধি সম্মতভাবে পাওয়ারদাতা কর্তৃক পাওয়ার অব অ্যাটর্ণি দলিল বাতিল করার পরও পাওয়ার গ্রহিতা বা অ্যাটর্ণি কর্তৃক কোন দলিল সম্পাদন এবং রেজিস্ট্রি করালে দলিলটি জাল বলে গণ্য হবে।

১০। সি,এস, জরিপ পরবর্তী সময়ে জমিটি যতবার বিক্রি বা অন্যভাবে হস্তান্তর হয়েছে, তার সঙ্গে জমির পরিমাণ মিল আছে কি-না, তা যাচাই করুন।

১১। দলিলে ব্যবহৃত নন-জুডিসিয়াল স্টাম্প সাধারণত সনদপ্রাপ্ত কোন স্টাম্প-ভেন্ডরের কাছ থেকে কেনা হয়। স্টাম্প-ভেন্ডরগণ এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রেজিস্টার বহিতে স্টাম্প ক্রেতার নাম, ক্রয়ের তারিখ, স্টাম্পের নম্বর লিখে রাখেন। এক্ষেত্রে স্টাম্প ভেণ্ডরের মাধ্যমে স্টাম্প ক্রেতার নাম ও ব্যবহৃত নম্বর পরীক্ষা করে জাল দলিল সনাক্ত করা যায়। 

 

এখানে ক্লিক করে জেনে নিন, দলিল জাল হলে কি করবেন? কিভাবে তা বাতিল করবেন?


এখানে ক্লিক করে জেনে নিন, রেজিস্ট্রি অফিসে কিভাবে জাল দলিল সৃষ্টি হতে পারে।

 

১৮৬০ সালের দন্ডবিধির ৪৬৪ ধারায় বলা হয়েছে,  কোনো ব্যক্তি মিথ্যা দলিল প্রস্তুত করেছে বলে গণ্য হবে-
প্রথমত- যে ব্যক্তি অসৎভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে কোনো দলিল বা দলিলের অংশবিশেষ প্রস্তুত, স্বাক্ষর, সিলমোহর বা সম্পাদন করে, অথবা দলিল সম্পাদনের নির্দেশক কোনো চিহ্ন অঙ্কন করে—এই অভিপ্রায়ে যেন বিশ্বাস করানো যায় যে, উক্ত দলিল বা দলিলের অংশবিশেষ এমন একজন ব্যক্তির দ্বারা বা তাঁর কর্তৃত্বে প্রস্তুত, স্বাক্ষরিত, সিলমোহরিত বা সম্পাদিত হয়েছিল, যার দ্বারা বা যার কর্তৃত্বে এটি প্রস্তুত, স্বাক্ষরিত, সিলমোহরিত বা সম্পাদিত হয়নি বলে সে জানে; অথবা এটি এমন এক সময়ে সম্পাদিত হয়েছিল যখন এটি সম্পাদিত হয়নি বলে সে জানে; অথবা
 
দ্বিতীয়ত- যে ব্যক্তি আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে, অসৎভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে, কেটে ফেলে বা অন্য কোনো উপায়ে, কোনো দলিলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিবর্তন করে, যা কি না সে নিজে বা অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রস্তুত বা সম্পাদিত হওয়ার পর করা হয়েছে; উক্ত পরিবর্তনের সময় সেই অন্য ব্যক্তি জীবিত বা মৃত যাই হোক না কেন; অথবা
 
তৃতীয়ত- যে ব্যক্তি অসৎভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে কোনো ব্যক্তিকে কোনো দলিল স্বাক্ষর, সিলমোহর, সম্পাদন বা পরিবর্তন করতে বাধ্য বা প্ররোচিত করে, অথচ সে জানে যে উক্ত ব্যক্তি মানসিক বিকৃতি বা মত্ততার কারণে দলিলের বিষয়বস্তু বা পরিবর্তনের প্রকৃতি বুঝতে অক্ষম, অথবা তার ওপর কোনো প্রতারণা আশ্রয় করার কারণে সে তা জানতে পারেনি।
 
 

সাব-রেজিস্ট্রার শাহাজাহান আলী পিএএ

2 comments

  • ১৯৩১ সালে ওয়াক্ফের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে আর ১৯৪৯ খাজনার দায়ে নিলাম হয়েছে, এটা কি সম্ভব। অথচ ওয়াক্ফ কার্যালয়ে নিলামের কোন কাগজ নেই। সি এস ওয়াক্ফের নামে রেকর্ড আর এস এ মালিকানা। কি রেকর্ড সংশোধনের মামলা করবো আর কতটা কার্যকর

error: Content is protected !!