হিন্দু ধর্মীয় আইনে নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধান জানুন

Last Updated on 25/04/2026 by সাব-রেজিস্ট্রার শাহাজাহান আলী পিএএ

The Majority Act, 1875 এর ৩ নং ধারা অনুসারে, একজন ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নাবালক থাকবেন; তবে যে নাবালকের শরীর বা সম্পত্তি বা উভয়ই আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কোন অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে বা কোর্ট অব ওয়ার্ডস এর অধীনে আছে, সে নাবালকের বয়স ২১ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নাবালক থাকবেন,  সাবালক হিসেবে গণ্য হবেন না।

হিন্দু ধর্মীয় আইন অনুসারে, নাবালকের অভিভাবক ৩ (তিন) প্রকারের হয়।

১। স্বাভাবিক অভিভাবক।

২। পিতা কর্তৃক উইলের মাধ্যমে নিযুক্ত অভিভাবক এবং

৩। আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক।

হিন্দু আইনে পিতা নাবালকের স্বাভাবিক অভিভাবক। পিতা জীবিত না থাকলে নাবালকের মাতা হবেন নাবালকের স্বাভাবিক অভিভাবক। এমনকি মাতা পুনরায় বিবাহ করলেও কেবলমাত্র সে কারণে মাতা নাবালকের অভিভাবকত্ব হারান না।

তবে মাতা নাবালক সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক হতে পারবেন না, যদি তার স্বামী অর্থাৎ নাবালকের পিতা তার জীবদ্দশায় উইল এর মাধ্যমে অন্য কোন ব্যক্তিকে তার নাবালক সন্তানদের অভিভাবক নিয়োগ করে যান। 

উপরে বর্ণিত অভিভাবকগণ নাবালকের আইনসঙ্গত প্রয়োজনে কিংবা নাবালকের সম্পত্তির কল্যাণার্থে (যৌক্তিক এবং বৈধ কারণে) নাবালকের পক্ষে নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয় বা অন্য কোন ভাবে দায়বদ্ধ করতে পারেন। উপরের তিন ধরনের অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য আদালতের অনুমতি নিতে হয়। 

আদালত কোনো ব্যক্তিকে নাবালকের অভিভাবক নিযুক্ত করলে সেক্ষেত্রে ঐ নাবালক ২১ বছর পূর্ণ হলেই কেবলমাত্র সাবালক হবেন।

নাবালকের স্বাভাবিক অভিভাবক, পিতা কর্তৃক উইলের মাধ্যমে নিযুক্ত অভিভাবক কিংবা আদালতের মাধ্যমে নিযুক্ত অভিভাবক আইনসঙ্গত প্রয়োজনে কিংবা নাবালকের সম্পত্তির মঙ্গলার্থ ব্যতীত নাবালকের স্বার্থের পরিপন্থী অন্য কোনো কারণে নাবালকের পক্ষে তার সম্পত্তি বিক্রয় বা অন্য কোনো প্রকারে হস্তান্তর করলে নাবালক সাবালক হওয়ার ৩ (তিন) বছরের মধ্যে ঐ হস্তান্তর বাতিলের জন্য আদালতে মামলা করতে পারেন।

 

সাব-রেজিস্ট্রার শাহাজাহান আলী পিএএ

Add comment

error: Content is protected !!