সাকসেশন সার্টিফিকেট বা উত্তরাধীকার সনদ সহজে পাওয়ার উপায় জেনে নিন।

Last Updated on 11/05/2026 by সাব-রেজিস্ট্রার শাহাজাহান আলী পিএএ

সাকসেশন সার্টিফিকেট এর জন্য আবেদন প্রক্রিয়া-

১। আবেদন বা আরজি দাখিলঃ নিজে বা একজন আইনজীবীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি আদালতে আবেদন বা আরজি দাখিল করতে হবে। আবেদনে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ এবং সকল ওয়ারিশের নাম থাকতে হবে।

২। কোর্ট ফি প্রদানঃ মৃত ব্যক্তির মোট অস্থাবর সম্পত্তির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করে অর্থাৎ টাকার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হারে কোর্ট ফি জমা দিতে হবে।

৩। আদালতের নোটিশঃ আবেদন জমা হওয়ার পর আদালত জাতীয় পত্রিকায় একটি বিজ্ঞপ্তি বা পাবলিক নোটিশ প্রকাশ করে। এটি এজন্য করা হয় যে, যাতে অন্য কারো কোনো আপত্তি থাকলে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে পারে।

৪। শুনানি ও রায়ঃ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেউ আপত্তি না জানালে আদালত শুনানি শেষে রায় প্রদানের মাধ্যমে সাকসেশন সার্টিফিকেট প্রদানের আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের সময় যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন হয়-
১। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ (যেখানে যা প্রযোজ্য) থেকে মৃত ব্যক্তির অনলাইন মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করতে হবে।
২। স্থানীয় কাউন্সিলর বা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে উত্তরাধিকারীদের নামের তালিকা সম্বলিত ওয়ারিশান সনদ সংগ্রহ করতে হবে।
৩। মৃত ব্যক্তির এবং মৃত ব্যক্তির সকল ওয়ারিশের জাতীয় পরিচয়পত্র বা কেউ নাবালক হলে জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি লাগবে।
৪। সকল অস্থাবর সম্পদের প্রমাণপত্র অর্থাৎ ব্যাংক স্টেটমেন্ট, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র বা শেয়ারের কপি  লাগবে।
৫। আবেদনকারী এবং অন্য ওয়ারিশদের পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে। 
মামলায় কোর্ট ফি ও ভ্যাটের পরিমাণঃ
মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া অস্থাবর সম্পত্তির মোট আর্থিক মূল্যের ওপর ভিত্তি করে কোর্ট ফি আইন, ১৮৭০ অনুযায়ী কোর্ট ফি’র পরিমাণ নির্ধারিত হয়।
১। সাধারণত ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে কোর্ট ফি দিতে হয় না। অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২০,০০১ থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষেত্রে ১% হারে কোর্ট ফি ও ১৫% হারে ভ্যাট দিতে হয়।
২। অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য ১,০০,০০০ টাকার বেশি হলে ২% হারে কোর্ট ফি দিতে হয়। মোট কোর্ট ফি’র এর উপর সাধারণত ১৫% হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়।
তবে মূল্য যাই হোক না কেন, সর্বোচ্চ কোর্ট ফি এর পরিমাণ ৪০,০০০/- টাকা। এর উপর ১৫% হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়।
উদাহরণস্বরূপ: যদি মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া মোট অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা হয়, তবে ২% হারে কোর্ট ফি হবে ১০,০০০ টাকা। এর ওপর ১৫% ভ্যাট অর্থাৎ ১৫০০ টাকা যোগ করলে মোট সরকারি খরচ হবে ১১,৫০০ টাকা।
সাকসেশন সার্টিফিকেট বা উত্তরাধীকার সনদ আর ওয়ারিশান সনদ কি এক জিনিস? 
অনেকেই ওয়ারিশান সনদ ও সাকসেশন সার্টিফিকেট একই মনে করেন। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ নির্ধারণ করা হলেও এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে।
ওয়ারিশ সনদ সাধারণত সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা কাউন্সিলর, পৌরসভা ক্ষেত্রে মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে পরিষদের চেয়ারম্যান প্রদান করে থাকেন। অপরদিকে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দেওয়ানী আদালত সাকসেশন আইন, ১৯২৫ অনুসারে সাকসেশন সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকেন।
সাধারণত দেখা যায় যে, স্থাবর সম্পত্তি অর্থাৎ জমি-জমার নামজারি, দলিল রেজিস্ট্রি, বন্টন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে ওয়ারিশান সার্টিফিকেট ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে অস্থাবর সম্পত্তি যেমন- মৃত ব্যক্তির ব্যাংকে জমানো টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, বিমার টাকা ইত্যাদি উত্তোলনের জন্য সাকসেশন সার্টিফিকেট ব্যবহার করা হয়।
ওয়ারিশান সনদ নামমাত্র ফি গ্রহণ করে অথবা বিনামূল্যে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিগণ প্রদান করে থাকেন। কিন্তু উত্তরাধীকার সনদ উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ অনুযায়ী আদালতে মামলা করে সম্পত্তির মূল্য অনুসারে আদালতে কোর্ট ফি জমাকরণের মাধ্যমে আদালতের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিজ্ঞ আদালত থেকে গ্রহণ করতে হয়, যা সময় স্বাপেক্ষ।

সাব-রেজিস্ট্রার শাহাজাহান আলী পিএএ

Add comment

error: Content is protected !!