অপ্রত্যাহার‍যোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আমমোক্তারনামা) দলিলের রেজিস্ট্রি খরচসহ অন্যান্য তথ্য (পণমূল্য ব্যতিত)

Last Updated on 12/07/2026 by সাব-রেজিস্ট্রার শাহাজাহান আলী পিএএ

 

পাওয়ার অব অ্যাটর্নিঃ- পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ এর ২ (১) ধারা অনুসারে, “পাওয়ার অব অ্যাটর্নি” অর্থ এমন কোন দলিল যাহার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি তাহার পক্ষে উক্ত দলিলে বর্ণিত কার্য-সম্পাদনের জন্য আইনানুগভাবে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট ক্ষমতা অর্পণ করেন।”

মনে রাখবেন, এই দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না। তাই দলিল গ্রহিতা তার নিজ নামে সম্পত্তি নামজারি বা খারিজ করতে পারবেন না। অর্থাৎ এই দলিলমূলে কেউ সম্পত্তির মালিকানা দাবী করতে পারেন না, দলিল গ্রহিতা কেবল দাতার পক্ষে দলিলে উল্লিখিত কার্য সম্পাদন করতে পারেন।

অনেকেই এই দলিলকে “আমমোক্তারনামা দলিল” বলে থাকেন। কিন্তু পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন ও বিধিমালার কোথাও “আমমোক্তারনামা” শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। তাই বাংলায় “পাওয়ার অব অ্যাটর্নি” কিংবা ইংরেজিতে “Power of Attorney” লেখাই যুক্তিযুক্ত।

 

অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নিঃ- পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ এর ২ (৪) ধারা অনুসারে, “অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি” অর্থ স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে, বিক্রয় চুক্তি সম্পাদনের বা ঋণ গ্রহণের বিপরীতে স্থাবর সম্পত্তির বন্ধক প্রদানের জন্য প্রদত্ত কোন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অথবা স্থাবর সম্পত্তির বিপরীতে পণ মূল্য গ্রহণের বিনিময়ে ভূমি উন্নয়নসহ উক্ত দলিল সম্পাদনের ক্ষমতা প্রদান সম্পর্কিত কোন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি।

অপ্রত্যাহার‍যোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (পণমূল্য ব্যতিত) দলিলের রেজিস্ট্রি খরচসহ অন্যান্য তথ্যঃ-

রেজিস্ট্রেশন ফিসঃ ১০০ টাকা (ই-ফি)

স্টাম্প শুল্কঃ ১৫০০ টাকা (১৮৯৯ সালের স্টাম্প আইনের ১ নম্বর তফশিলের ৪৭ডি নম্বর ক্রমিকে উল্লিখিত বর্ণনা অনুসারে)।

এছাড়া আরও যা যা লাগবে- 

১। ৩০০ টাকার স্টাম্পে হলফনামা।

২। ই- ফিঃ- ১০০ টাকা।

৩। ঢ- ফিঃ- দলিলের প্রতি ৩০০ (তিন শত) শব্দ বিশিষ্ট এক পৃষ্ঠা বা উহার অংশ বিশেষের জন্য ২৪ টাকা

৪। (নকলনবিশগনের পারিশ্রমিক) ঢঢ ফিসঃ- দলিলের প্রতি ৩০০ (তিন শত) শব্দ বিশিষ্ট এক পৃষ্ঠা বা উহার অংশ বিশেষের জন্য ৩৬ টাকা

 

মন্তব্যঃ-

১। সকল ফি রেজিস্ট্রি অফিসে নগদে পরিশোধ করতে হবে।

২। সরকার নির্ধারিত হলফনামা, ৩০০ টাকার স্টাম্পে প্রিন্ট করে মূল দলিলের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

৩। মূল দলিল সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা মূল্যের স্টাম্প ব্যবহার করা যায়। স্টাম্প খাতের বাকী টাকা স্থানীয় সোনালী ব্যাংক লিঃ এ জমা করে পে-অর্ডার এর মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।

 

বিঃদ্রঃ

১। অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮, এর ৫২এ ধারা প্রযোজ্য।

২। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার যেকোনো মূল্যের জমি, বিল্ডিং বা এপার্টমেন্ট এর পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আমমোক্তারনামা) দলিল রেজিস্ট্রিতে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণক দাখিল করতে হবে।

৩। স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯ এর ৫ ধারায় ‘একাধিক স্বতন্ত্র বিষয়-সম্পর্কিত দলিল’ সম্বন্ধে বলা হয়েছে, “একাধিক স্বতন্ত্র বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত বা সংশ্লিষ্ট কোনো দলিলের ক্ষেত্রে, এই আইনের অধীনে প্রতিটি বিষয় পৃথক দলিলে অন্তর্ভুক্ত হলে যে পরিমাণ শুল্ক প্রযোজ্য হতো, সেই সকল শুল্কের মোট পরিমাণ উক্ত দলিলের ওপর আরোপযোগ্য হবে।”

 

 

৪। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে ক্ষমতা অর্পনে সীমাবদ্ধতাঃ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫ এর ৪ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের উদ্দেশ্য পুরনকল্পে, এই বিধিমালার অধীন পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে নিম্নবর্ণিত বিষয়ে কোন ক্ষমতা অর্পণ করা যাবে না, যথা-

(১) উইল সম্পাদন, বা দাতা কর্তৃক সম্পাদিত উইল রেজিস্ট্রির উদ্দেশ্যে দাখিলকরন;

(২) দত্তক গ্রহনের ক্ষমতাপত্র সম্পাদন; বা দাতা কর্তৃক সম্পাদিত দত্তক গ্রহনের ক্ষমতাপত্র রেজিস্ট্রির উদ্দেশ্যে দাখিলকরন;

(৩) দান বা হেবা সম্পর্কিত ঘোষণা সম্পাদন;

(৪) ট্রাস্ট দলিল সম্পাদন; এবং

(৫) সরকার কর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, ঘোষিত অন্য প্রকার দলিল বা কার্য সম্পাদন।

 

৫। রেজিস্ট্রেশন আইনের ৫২এ ধারা নিম্নরূপঃ

[কোন স্হাবর সম্পত্তির বিক্রয় দলিল দাখিল করা হলে, যে পর্যন্ত নিম্নবর্ণিত বিবরনাদি দলিলে অন্তর্ভূত এবং দলিলের সহিত সংযুক্ত না করা হয়, সেই পর্যন্ত নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা দলিলটি নিবন্ধন করবেন না, যথা-

(১) বিক্রেতা যদি উত্তরাধিকারপ্রাপ্তি  ব্যতিত অন্যভাবে সম্পত্তির মালিক হইয়া থাকেন, তাহলে “রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন,১৯৫০” এর অধীন তার নামে প্রস্তুতকৃত সর্বশেষ খতিয়ান;

(২) বিক্রেতা যদি উত্তরাধিকার প্রাপ্তিতে সম্পত্তির মালিক হয়ে থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর অধিন তার নামে অথবা তার পূর্বসূরির নামে প্রস্তুতকৃত সর্বশেষ খতিয়ান;

(৩) সম্পত্তির প্রকৃতি ;

(৪) সম্পত্তির মূল্য;

(৫) সীমানা ও চৌহদ্দিসহ সম্পত্তির একটি নকশা;

(৬) সম্পত্তির মালিকানার গত ২৫ (পঁচিশ) বৎসরের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা; এবং

(৭) এই দলিল সম্পাদনের পূর্বে সম্পাদনকারী সম্পত্তিটি কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করেন নাই এবং উহাতে তাহার বৈধ স্বত্ব বহাল আছে মর্মে দৃঢ়ভাবে ঘোষনা করিয়া একটি হলফনামা।]

 

সাব-রেজিস্ট্রার শাহাজাহান আলী পিএএ

6 comments

  • আসসালা মুআলাইকুম।
    ভাই আমাদের দুই ভাইয়ের নাম দশ শতক জায়গা আছে। আমার নাম ৫ শতক, তার নাম ৫ শতক। আমি বিদেশে থাকি। আমি জানতে চাচ্ছি আমি যদি “অপ্রত্যাহারযোগ্য” পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি পাঠাঁই আমার ভাইয়ের নামে সে কি আমার নামের ৫ শতক জায়গা বিক্রি করতে পারবে উক্ত “অপ্রত্যাহারযোগ্য” পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিয়ে? জানালে উপকৃত হব।

  • ভাই আমাকে অপ্রত্যাহার যোগ্য পাওয়ার দেওয়া হয়েছে কিন্তু যারা আমাকে পাওয়ার দিয়েছে তাদের মধ্যে একজন মারা গিয়েছে এখন এই যমি কি আমি বিক্রি করতে পারবো?

  • স্যার,
    আসসামু আলাইকুম। আমি অ-প্রত্যাহার যোগ্য দলিল মুলে একজনের কাছে থেকে রেজিঃ বায়না করেছি। এর কিছুদিন পরে দালালের মাধ্যমে জানতে পারি যে পাওয়ার দাতা মারা গেছেন (উল্লেখ্য যে, পাওয়ার দাতা একজন ও পাওয়ার গ্রহীতা একজন) । অনেকের সাথে পরামর্শ করেছি কেউ বলছে দালালদের টাকা খাওয়ার ধান্দা, কেউ বলছে ওয়ারীশদের সই স্বাক্ষর লাগবে, এই নিয়ে অনেক দুঃচিন্তায় আছি। আপনার পরামর্শ চাই।

  • ইদানিং আমাদের এলাকায় এরকম একটা দলিল হইছে।প্রায় ১০৩৯.১৬ একর জনি অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দেয়।কিন্তু জমিগুলো তাদের নয়।তাহলে গ্রহীতা কি বিক্রি করতে পারবে?

  • আমার ৫ কড়া জমি আছে আমার নামে বিএসসহ, আমার মা অসুস্থতার কারণে আমার ৫ কড়া হতে আড়াই করা আমি আমার মাকে হেবা দিয়ে দিছি, আমার মা ওই আড়াই করা ওনার বোনকে হেবা দিয়ে দিছে, আমার জমির দাগ ছিল তিনটি ২৫০৫২, ২৫০৫৩, ২৫০৬৪ টা প্রথম এবং তৃতীয়টা মিলে আড়াই করা মধ্যরটা বাদে কিন্তু সাত বছর পর আমি একজনকে পাওয়ার দিয়েছি বাকি আড়াই করা উনি আমার উল্লেখিত তিন দাগ ঢুকিয়ে নিয়েছে এতে কোন সমস্যা আছে কিনা।

error: Content is protected !!