ভূমি জরিপ এবং বিভিন্ন ধরনের খতিয়ান

ভূমি জরিপ এবং বিভিন্ন ধরনের খতিয়ান

Last Updated on 08/02/2023 by সাব-রেজিস্ট্রার শাহাজাহান আলী বিপিএএ

ভূমি জরিপ এবং খতিয়ানঃ

কোন নির্দিষ্ট এলাকার প্রত্যেক ভূখন্ড সরেজমিনে পরিমাপ করে নির্দিষ্ট স্কেল অনুসারে এর অবস্থান এবং আয়তন সম্বলিত একটি মৌজা নকশা প্রণয়ন করে প্রত্যেক ভূখন্ডের মালিক, দখলদার, জমির পরিমাণ, মালিকানার পরিমান, জমির শ্রেণী ইত্যাদি সম্বলিত ভূমি রেকর্ড বা খতিয়ান প্রনয়ন করাই ভূমি জরিপ। সহজ কথায়, মৌজা নকসা প্রণয়ন এবং স্বত্বলিপি (RoR = Record of Rights) তৈরির কাজকে ভূমি জরিপ বলা হয়। 

আর ও আর: RoR= Record of Rights. বাংলায় ইহাকে স্বত্বলিপি বলে। ভূমির স্বত্ব বা মালিকানা এখানে লিপিবদ্ধ থাকে বলে ইহাকে Record of Right (RoR) বা স্বত্বলিপি বলা হয়। এগুলো মূলত ভূমির খতিয়ানের একত্রিত রূপ। যেমন, সি,এস খতিয়ান; এস,এ খতিয়ান ইত্যাদি।

বাংলাদেশে বিভিন্ন জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে যে সকল খতিয়ান প্রস্তুত হয় তা নিম্নরূপ বর্ণনা করা হলোঃ-

সি, এস, খতিয়ানঃ-

১৮৮৮ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের তত্বাবধানে বাংলায় একটি ভূমি জরিপ হয় যাকে সি,এস, জরিপ বলে। কক্সবাজারের রামু থানা থেকে শুরু হয়ে দিনাজপুরে এ জরিপ শেষ হয়। প্রথম হলেও এ জরিপকে নির্ভুল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই জরিপের মাধ্যমে তৈরি নকশাকে সি, এস, নকশা; এবং খতিয়ানকে সি, এস, খতিয়ান বলা হয়। সি, এস, খতিয়ান বাংলাদেশে প্রচলিত খতিয়ানসমুহের মধ্যে প্রথম। অধিকাংশ সময় মামলা-মোকদ্দমায় কিংবা বিবাদ মিমাংশার ক্ষেত্রে এ খতিয়ানকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। (CS = Cadastral Survey)

এস, এ, খতিয়ানঃ

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর মাধ্যমে জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ হবার পর জমিদারদের নিকট থেকে অধিগ্রহনকৃত জমির হিসাব নির্ণন, বিলুপ্ত জমিদারীর ক্ষতিপূরন প্রদান, জমির দখলদার রায়তদের জমির মালিক হিসেবে সরকারের অধীনে আনয়ন ও মালিকানার স্বীকৃতি প্রদান প্রভৃতি কারনে ভুমি জরিপের প্রয়োজন দেখা দেয়। সি, এস, রেকর্ড সংশোধনের লক্ষে জমিদারদের নিকট থেকে কাগজপত্র সংগ্রহের পর ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৩ এর মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত জরিপের মাধ্যমে যে রেকর্ড প্রস্তুত হয়, তাকে এস, এ, জরিপ বা এস, এ, খতিয়ান বলে। সংক্ষিপ্ত সময়ে জমিদারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ জরিপের মাধ্যমে খতিয়ান প্রস্তুত হয় বলে এতে প্রচুর ভুল-ভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয়।রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ফলে মধ্যস্বত্ব প্রথার বিলোপ হয় এবং পরিবার প্রতি ভূমির সর্বোচ্চ সীমা ৩৭৫ বিঘা নির্ধারিত হয়। (SA = State Acquisition)


আর, এস, খতিয়ানঃ-

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর পরবর্তী প্রস্তুতকৃত এস,এ, খতিয়ানে প্রচুর ভুল-ভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয় বিধায় তা সংশোধনের লক্ষে সরকার একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তেতে তৎকালিন সরকার ১৯৬৩ সাল থেকে যে সংশোধনী জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে খতিয়ান প্রস্তুত করে, তাই আর, এস, খতিয়ান নামে পরিচিত। ইতোমধ্যে দেশের অধিকাংশ এলাকায় এ জরিপ শেষ হয়েছে এবং কিছু এলাকায় এখনো চলছে। এখানে উল্লেখ্য যে, বি, এস, খতিয়ান; বি,আর,এস খতিয়ান; সিটি খতিয়ান মূলতঃ আর, এস, খতিয়ান এর অন্তর্ভুক্ত। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ আমলে জরিপ শুরুর পর এর মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত আর, এস, খতিয়ান অনেক অঞ্চলে বি, এস, খতিয়ান নামে পরিচিত এবং কোন কোন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সিটি খতিয়ান নামে পরিচিত। (RS = Revisional Survey, BS = Bangladesh Survey, BRS = Bangladesh Revisional Survey)

সাব-রেজিস্ট্রার শাহাজাহান আলী বিপিএএ

2 comments

  • সি এস,এর মধ্যে বাবার নাম,আর আরোয়ারের মধ্যে ওনার ৩ ছেলের নাম লিপিবদ্ধ আছে,কিন্তু কিছুদিন আগে, বি এস খতিয়ানের মধ্যে ১ ভাইয়ের নাম লিপিবদ্ধ হইনি, অন্য ২ ভাইয়েদর নাম ও অংশ লিপিবদ্ধ আছে।

  • আমি আমার সব দলিল গুলো অনলাইন করতে চাই

error: Content is protected !!